Skip to content Skip to sidebar Skip to footer

বিজনেস মডেল – ৩০ দিনে শুরু করুন আপনার ফেসবুক মার্কেটিং বিজনেস – পর্ব ২

আসসালামু আলাইকুম,

এই সিরিজের দ্বিতীয় পর্বে আপনাকে স্বাগতম, আপনি যদি প্রথম পর্ব টা মিস করে থাকেন তাহলে আমার প্রোফাইলে অন্য পোষ্টগুলোর লিঙ্ক থেকে পরে আসতে পারেন, তাহলে ধারাবাহিকতা ঠিক থাকবে এবং ছন্দ খুজে পাবেন।

পোষ্ট এর টাইটেল দেখে ইতিমধ্যেই আপনারা জানেন যে আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ফেসবুক মার্কেটিং সার্ভিস প্রোভাইড করা এবং এটাকে একটা বিজনেসে রুপ দেয়া। আমাদের বিজনেস মডেলটা বুঝতে সহজ হবে যদি আমরা এর চাহিদা সম্পর্কে একটু জেনে নেই।

কি করবো? কাদের জন্য করবো?

একটু খেয়াল করলে দেখবেন যে আপনার হয়ত কোন একটা কিছু পছন্দ হয়েছে বা কেনার কথা ভাবছেন, তার একটু পরই ফেসবুকে সেই প্রোডাক্ট এর এড চলে আসছে, এই পেইজগুলো আপনাকে টার্গেট করেই তাদের এড রান করছে এবং প্রফেশনালি তাদের বিজনেস করছে।

আবার বায় ও সেল গ্রুপ গুলোতে গেলে দেখবেন লাখ লাখ মেম্বার, তারা সবাই কিছু না কিছু সেল করার জন্য পোষ্ট করছে। তাদের কেউ এড রান করে আবার কেউ শুধু বিভিন্ন গ্রুপে পোষ্ট করেই তাদের বিজনেস পরিচালনা করছে।

ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে গেলেও দেখবেন লাখ লাখ প্রোডাক্ট, অর্থাৎ এমন মানুষের সংখ্যা অনেক যারা কিনা ফেসবুকে তাদের প্রোডাক্ট সেল করছে অথবা করার চেষ্টা করছে। খুজলে হয়ত আপনার পরিচিতদের মাঝেই ২/৪ জন পেয়ে যাবেন।

এবার একটু খেয়াল করলে দেখবেন যে যারা ফেসবুকে প্রোডাক্ট সেল করার চেষ্টা করছে তাদের অধিকাংশই কাজটা প্রফেশনালি করতে পারছেনা, তার মধ্যে অন্যতম কিছু কারন হচ্ছে

১। ফেসবুক প্রোফাইল অপ্টিমাইজ না করা।

২। লোগো না থাকা।

৩। সঠিক অডিয়েন্স গ্রুপ কে টার্গেট করতে না পারা।

৪। এড ক্যাম্পেইন রান করতে না পারা।

অধিকাংশ সেলারই প্রথম ৩ টা কে গুরুত্ব না দিলেও তারা চায় ফেসবুকে এড রান করতে, কিন্তু তাদের হয়ত পেমেন্ট সিষ্টেম নাই অথবা অনেকের টেকনিক্যাল নলেজ নাই, তাই তারা এটা করতে পারছেনা, কিন্তু সব সেলার রাই একমত যে এড রান করতে পারলে তাদের সেল আরো বাড়তো। তারা সবাই এমন কাউকে খুজছে যে তাদের পেজে এড রান করে দিবে কোন কুপন এর মাধ্যমে নয়, রিয়েল কার্ড দিয়ে, যাতে তাদের পেজের কোন ক্ষতি না হয়।

এখানেই হচ্ছে আপনার সম্ভাবনা, আপনি যেহেতু ডিজিটাল মার্কেটার তাই আপনি তাদের জন্য এই সার্ভিসটা প্রোভাইড করবেন। আপনার মার্কেটিং নলেজ দিয়ে তাদের সম্ভ্যাব্য ক্রেতা কে টার্গেট করে এড রান করে দিবেন, আর যদি তা সঠিক ভাবে করতে পারেন তাহলে অবশ্যই সেল বারবে আর আপনি হয়ে যাবেন ঐ পেজের রেগুলার এড পার্টনার। সে আপনাকে কোনভাবেই হাতছাড়া করবেনা।

আপনাকে এমন কিছু পেজ খুজে বের করতে হবে যারা প্রতিদিন অন্তত ১০ ডলার এর এড রান করে আর যদি এমন ১০ টা পেজ এর পার্টনার হতে পারেন তাহলে প্রতিদিন ১০০ ডলার এড রান হবে, প্রতি ডলার থেকে ২০ টাকা থাকলে দৈনিক আয় ২০০০ টাকা আর মাসিক আয় ৬০,০০০ টাকা।

এটা হচ্ছে একেবারেই ব্যাসিক হিসাব, কিন্তু যখন আপনার বিজনেসের ৬ মাস পার হবে তখন দেখবেন আপনার ক্লায়েন্ট এর সংখ্যা ২০ বা ৩০ হয়ে গেছে, আবার এমন কিছু পেজ ও পেয়ে যাবেন যারা সপ্তাহে ২০০০০ টাকা থেকে ৫০০০০ হাজার টাকার এড রান করে (যদি আপনি ভালো সার্ভিস দিতে পারেন তাহলে রেগুলার ক্লায়েন্টরাই এড এর পরিমান বাড়াবে যদি আপনি সেল বাড়াতে পারেন)

সহজ একটি বিজনেস মডেল

তাহলে এক কথায় আমাদের বিজনেস মডেলটা হচ্ছে এরকম

ঐ সমস্ত ফেসবুক পেজ গুলোকে মার্কেটিং সার্ভিস দেয়া যারা প্রোডাক্ট সেল করে কিন্তু তাদের নিজস্ব এড রান করার সক্ষমতা নাই অথবা ভালো মার্কেটিং নলেজ নাই। আর প্রতি ডলার অন্তত ১৫-২০ টাকা প্রফিট করা। এভাবে সময়ের সাথে সাথে ক্লায়েন্ট বৃদ্ধি ও বিজনেস ক্যাপাসিটি এক্সটেন্ড করার মাধ্যমে একটা মার্কেটিং এজেন্সি তে রুপ দেয়া।

আমরা শুরু করতে পারি একবারে মিনিমাল থেকে, যেমন প্রথমে শুধুমাত্র ফেসবুক এড রান সার্ভিস দেয়া, তারপর প্রোফাইল অপ্টিমাইজেশন ও লোগো ডিজাইন সার্ভিস দেয়া (লোগো ডিজাইন এর জন্য ফ্রিল্যান্সার হায়ার করা যেতে পারে)। এরপর পেজের জন্য কন্টেন্ট ক্রিয়েশন ও টোটাল পেজে মেইন্টেন্যান্স সার্ভিস দেয়া। এভাবে আস্তে আস্তে আপনার স্কিল ডেভেলপ করা ও নতুন সার্ভিস প্রোভাইড এর মাধ্যমে বিজনেস টাকে স্কেল আপ করা।

এই বিজনেস শুরু করতে আপনার কি কি থাকতে হবে?

এই বিজনেস শুরু করতে আপনার প্রয়োজন একটা সঠিক পরিকল্পনা, ১ মাস সময় আরে নিম্নে বর্নিত কিছু বিষয়গুলো…

১। একটা ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ কম্পিউটার, ল্যাপটপ হলে একটু বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাবে।

২। একটা ভ্যালিড পাসপোর্ট, ব্যাঙ্ক একাউন্ট ও ডুয়েল কারেন্সি কার্ড। পাসপোর্ট না থাকলে এখনি আবেদন করুন, ৩ মাসের মধ্যে হয়ে যাওয়ার কথা।

৩। পর্যাপ্ত স্কিল ডেভেলপমেন্ট, পরবর্তি পোষ্টে এই ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

আমি ধরে নিচ্ছি আপনার একটি কম্পিউটার আছে। তাহলে আপনার প্রথম দুই সপ্তাহ আপনার কাজ হচ্ছে স্কিল ডেভেলপমেন্ট করা, এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া, অর্থাৎ আপনাকে নিয়মিত শিখে যেতে হবে অন্তত ৩ মাস পর্যন্ত, কিন্তু শুরু করার জন্য যেই স্কিল গুলো খুব বেশি গুরুত্বপুর্ন তার জন্য ২ সপ্তাহ যথেষ্ট।

তৃতীয় সপ্তাতে আপনার বিজনেস সেটাপ করতে হবে, যেমন ফেসবুক পেজ, গুগল শিট, টার্গেট অডিয়েন্স সেটাপ, কন্টেন্ট ম্যাপিং ও মার্কেটিং প্ল্যান।

চতুর্থ সপ্তাহে আপনার বিজনেস লঞ্চ হবে, মার্কেটিং শুরু হবে এবং আশা করা যায় আপনি ঐ সমস্ত ক্লায়েন্ট দের সাথে কানেক্ট হয়ে সার্ভিস প্রোভাইড শুরু করতে পারেবন ইনশাআল্লাহ।

আজকের করনীয়

এড রান করার জন্য আমাদের একটি ডুয়েল কারেন্সি কার্ড প্রয়োজন আর এটা পেতে আমাদের অবশ্যই একটি ভ্যালিড পাসপোর্ট দরকার, তাই আপনার যদি পাসপোর্ট না থাকে তাহলে প্রয়োজনিয় ডকুমেন্ট প্রস্তুত করে যত দ্রুত সম্ভব পাসপোর্ট এর জন্য অনলাইনে আবেদন করা, এক্ষেত্রে হয়ত ২/৩ মাসেই আপনি পাসপোর্ট পেয়ে যেতে পারেন।

আজকে আমরা মূল বিজনেস মডেল ও পরিকল্পনা জানলাম। আগামী পোষ্টে আমরা আলোচনা করবো স্কিল ডেভেলপমেন্ট নিয়ে ইনশাআল্লাহ।

আপনাদের মূল্যবান মতামত কমেন্টে আশা করছি।

সবাইকে ধন্যবাদ,

মোঃ মাসুম

What's your reaction?
1Smile0Lol0Wow0Love0Sad0Angry

Leave a comment