Skip to content Skip to sidebar Skip to footer

ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং কি ও কিভাবে শিখবো? নতুনদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং শেখার পুর্নাংগ গাইডলাইন

ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং কি এর সহজ উত্তর হচ্ছে উন্নত বিশ্বের লোকজন তাদের প্রয়োজনীয় কাজ গুলো কম খরচে করিয়ে নেওয়ার জন্য স্বল্প উন্নত দেশের মানুষদেরকে হায়ার করে, যা কিনা তাদের জন্য হচ্ছে আউটসোর্সিং বা বাহিরের কোন উৎস থেকে কাজটা করিয়ে নেওয়া। আর এই কাজটা যখন আমরা করি তখন এটা আমাদের জন্য হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং। গ্রাফিক্স ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, প্রোগ্রামিং, এমন ছোট-বড় শত শত কাজ ফ্রিল্যান্সাররা করে থাকে।

অনলাইনে যা করা হয় শুধু যে তাই ফ্রিল্যান্সিং ব্যাপারটা এরকম নয়। যখন কেউ আমাদের থেকে কম খরচে কোনো ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট তৈরি করে নিয়ে যায় সেটাও একপ্রকার আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিং।

এই আর্টিকেলে আমরা দেখব কিভাবে ঘরে বসে কোন একটা বিষয়ে দক্ষ হয়ে আপনিও অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং করতে পারেন। আপনি যদি এই ব্যাপারে নতুন হয়ে থাকেন তাহলে এই আর্টিকেলটা হতে পারে আপনার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন। 

এই আর্টিকেলে আমি শেয়ার করার চেষ্টা করব ফ্রিল্যান্সিং এর কোন কোন কাজ সমূহ আপনার পক্ষে সহজেই শুরু করা সম্ভব, আপনার জন্য কোনটা শেখা উচিত, সেই কাজটার ভবিষ্যৎ কেমন, কিভাবে কোথা থেকে শিখবেন, কতদিন লাগতে পারে এবং কিভাবে আপনি কাজ পাবেন।

চলুন শুরু করা যাক…

ফ্রিল্যান্সিং এর কাজসমুহ বা জব ক্যাটাগরি, ২০২৩ এ কোন কাজটা আপনার শেখা উচিত এবং এর ভবিষ্যৎ কি?

ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য জনপ্রিয় একটা মার্কেটপ্লেস হচ্ছে ফাইভার, যেখানে রয়েছে ৩০০টির অধিক কাজের ক্যাটাগরি, যার প্রতিটির মধ্যে রয়েছে আরো ছোট ছোট সাব ক্যাটাগরি। অর্থাৎ সবমিলিয়ে ৫০০ টির ও অধিক কাজের ধরন রয়েছে যার যেকোনো একটি শিখে আপনি ফ্রিল্যান্সিং করতে পারেন।

এই অংশে আমি ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব এমন আটটা কাজ যা তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে শিখে আপনি ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন এবং এগুলো শেখা তুলনামূলক সহজ।

১. গ্রাফিক্স ডিজাইন

সৃজনশীলতা যদি আপনাকে আকৃষ্ট করে তাহলে গ্রাফিক্স ডিজাইন হওয়া উচিত আপনার প্রথম পছন্দ। এটি একটি বড় ক্যাটাগরি, এর মধ্যে রয়েছে ছোট ছোট অনেক ক্যাটাগরি যেমন লোগো ডিজাইন, ব্যানার ডিজাইন, বুক কাভার ডিজাইন, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ডিজাইন, টি শার্ট ডিজাইন এবং আরো অনেক কিছু।

আপনার ভালো লাগে এমন একটা ছোট ক্যাটাগরিকে টার্গেট করে আপনি এগোতে পারেন। মার্কেট প্লেসে এই কাজগুলোর চাহিদা অনেক। এডোবি ইলাস্ট্রেটর, ফটোশপ, ক্যানভা, এগুলো শিখে আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে পারেন। প্রতিদিন ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় দিয়ে তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই আপনি নিজেকে দক্ষ গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে তৈরি করতে পারেন।

২. ফেসবুক মার্কেটিং

এটি ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি অংশ, ফেসবুক মার্কেটিং শিখে আপনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য তাদের ফেসবুক পেজ তৈরি ম্যানেজ, কনটেন্ট মার্কেটিং ও অ্যাড রান এর সার্ভিস দিতে পারেন। আর আপনার যদি নিজস্ব একটা ডুয়েল কারেন্সি কার্ড থাকে তাহলে আপনি আপনার পরিচিত ফ্রেন্ডস এন্ড ফ্যামিলির মাঝে বুস্টিং সার্ভিস দিতে পারেন এমনকি এটাকে বিজনেস হিসেবেও নিতে পারেন। ফেসবুক মার্কেটিং শিখলে কারো কাজের আশায় আপনাকে বসে থাকতে হবে না। আপনি নিজেই বুঝে যাবেন কিভাবে এড রান করে ক্লাইন্ট ম্যানেজ করতে হয় এবং তাদের সার্ভিস প্রোভাইড করতে হয়।

ফেসবুক মার্কেটিং শেখা তুলনামূলক সহজ, প্রতিদিন দুই থেকে তিন ঘন্টা সময় দিয়ে ২ থেকে তিন মাসের মধ্যেই আপনি এটাতে দক্ষ হয়ে যেতে পারবেন। আমার মতে নতুনদের ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার হিসেবে ফেসবুক মার্কেটিং হতে পারে দারুন একটা সাবজেক্ট।

৩. গুগল এডস ও এনালিটিক্স

ইন্টারনেটে মার্কেটিং এর অন্যতম বড় একটা মাধ্যম হচ্ছে গুগল এডস, যা কিনা সার্চ ইঞ্জিন পেজ থেকে শুরু করে ইউটিউব, মোবাইল অ্যাপ, ও অন্যান্য ওয়েবসাইটে আমরা দেখতে পাই। কিভাবে এই এডস গুলো রান হয় এবং তার কস্ট কমিয়ে সম্ভাব্যক্রেতার কাছে পৌঁছানো যায়, এগুলোই হচ্ছে গুগল এডস ও এনালিটিক্সের মূল কাজ।  একজন দক্ষ এডস এক্সপার্ট এর চাহিদা ব্যাপক।

ফ্রিল্যান্সিং শেখার জন্য গুগল এডস দারুন একটা বিষয়, ফেসবুক অ্যাড এর মতো এটা শিখতে দুই তিন মাস লাগবে এবং এগুলো শেখার পর আপনি রিমোটলি জবও করতে পারবেন।

৪. ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েব ডেভেলপমেন্ট

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট অনেক বড় একটা বিষয় আর এটাকে অনেক সহজ করে দিয়েছে ওয়ার্ডপ্রেস। এটি মূলত একটি কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম যা ব্যবহার করে খুব সহজে একটি প্রফেশনাল ওয়েবসাইট এবং ই-কমার্স ওয়েবসাইটে তৈরি করা যায়।

বিভিন্ন জরিপে দেখা যায় পৃথিবীতে যত ওয়েবসাইট আছে তার প্রায় ৪৩% তৈরি করা হয়েছে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে। এটি যে কতটা জনপ্রিয় তা বলার অপেক্ষা রাখেনা এবং দিন দিন এর জনপ্রিয়তা বাড়ছেই। একজন রেগুলার ওয়েবসাইট ডেভেলপার হতে হলে আপনার সময় লাগবে প্রায় দুই বছর, আর যদি আপনি ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করে ওয়েবসাইট তৈরি করে ফ্রিল্যান্সিং করতে চান তাহলে চার থেকে ছয় মাসের মধ্যেই আপনি এটি শিখতে পারবেন। 

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ওয়ার্ড প্রেস শিখে ফ্রিল্যান্সিং আর্টিকেলটি পড়তে পারেন।

৫. শফিফাই

শপিফাই হচ্ছে জনপ্রিয় একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরির প্ল্যাটফর্ম। ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে যেকোনো ওয়েবসাইট তৈরি করা গেলেও শপিফাই দিয়ে শুধুমাত্র ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়, এটি ব্যবহার করা সহজ তাই যাদের মূল উদ্দেশ্য ই-কমার্স তারা শফিফাই বেছে নেয়।

শপিফাই ডেভলপার হিসেবে আপনার কাজ হবে একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট সেটআপ, ল্যান্ডিং পেজ সেটআপ, প্রোডাক্ট আপলোড এবং বিভিন্ন অ্যাপ ইনস্টল এর মাধ্যমে নতুন ফিচার ওয়েবসাইটে এড করা।

দেড় থেকে দু মাসের মধ্যেই আপনি কাজগুলো শিখে ফেলতে পারেন। যত দিন যাচ্ছে শপিফাই ততই জনপ্রিয় হচ্ছে। নতুন হিসেবে এটা হতে পারে আপনার জন্য ফ্রিল্যান্সিং এর দারুন একটা বিষয়।

৬. ইমেইল মার্কেটিং

যে বিষয়গুলো নিয়ে খুব সহজে ফ্রিল্যান্সিং করা যায় তার মধ্যে ইমেইল মার্কেটিং আমার পছন্দের একটা বিষয়, এটি শেখা সহজ কিন্তু সম্ভাবনা বিশাল। সম্ভাব্য ক্রেতার ইমেইল ঠিকানা সংগ্রহ করে তাদেরকে বিভিন্ন অফার ইমেইল সেন্ড করে যে মার্কেটিং করা হয় সেটাই ইমেইল মার্কেটিং এর মূল ধারণা।

বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় কিছু ইমেইল মার্কেটিং প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে Klaviyo, MailChimp, Drip ইত্যাদি. এগুলোর যে কোন একটা শিখে শুরু করতে পারেন, তাহলে বাকিগুলো সহজ হয়ে যাবে। শুধুমাত্র ইমেইল মার্কেটিং করে কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং করা যায় এই বিষয়ে সামনে একটা পোস্ট আসছে।

৭. আর্টিকেল রাইটিং

শুধুমাত্র ইংরেজি দক্ষতা দিয়ে যেই ক্যাটাগরিতে ফ্রিল্যান্সিং করা যায় তা হচ্ছে আর্টিকেল রাইটিং ও কপিরাইটিং। প্রোডাক্ট রিভিউ, ব্লগ পোস্ট, টপ টেন বেষ্ট প্রোডাক্ট, ইত্যাদি জাতীয় লেখাগুলোই হচ্ছে আর্টিকেল রাইটিং। Chat GPT আসার পর এই কাজটা পানির মতো সহজ হয়ে গেছে, সঠিক ভাবে Chat GPT কে ইন্সট্রাকশন দিতে পারলে কয়েক মিনিটেই খুব সুন্দর ও ভালো মানের আর্টিকেল লেখা যায়। ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য সবচাইতে সহজে যেই কাজগুলো আছে আর্টিকেল রাইটিং তার মধ্যে একটা

৮. এসইও

এটি এমন একটা দক্ষতা যা শিখলে আপনাকে মার্কেটপ্লেস বা অন্য কারো কাজের আশায় থাকতে হবে না, আপনি নিজেই একটা ওয়েবসাইট র‍্যাংক করে গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে আর্ন করতে পারবেন। একজন দক্ষ এসইও এক্সপার্ট এর চাহিদা অনেক। দুই থেকে তিন মাস সময়ে আপনি এটি শিখতে পারবেন কিন্তু প্র্যাকটিস করে তার রেজাল্ট পাওয়ার জন্য আপনাকে চার থেকে ছয় মাস অপেক্ষা করতে হবে। আর রেজাল্ট পাওয়ার পর আপনাকে পেছনে তাকাতে হবে না। ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য এটিও দারুন একটি সাবজেক্ট।

আপনার কোনটা শেখা উচিত

আপনার কোন কাজটা শেখা উচিত এর উত্তরে সাধারণত আমরা বলে থাকি এমন একটা কাজ আপনার শেখা উচিত যা করতে ভালো লাগে, যা আপনাকে আনন্দ দেয়, কিন্তু আসলে কি ব্যাপারটা তাই, আসলেই কি এরকম কিছু শেখা উচিত ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য?

ধরা যাক গ্রামের সাধারণ একটা ছেলে যে কিনা ফ্রিল্যান্সিং শিখতে তার চায়, ভিডিও এডিটিং তার খুব ভালো লাগে, এটা তার আবেগ, এটা তাকে আনন্দ দেয়। এখন তার ভালো লাগা কে প্রাধান্য দিয়ে যদি সে ভিডিও এডিটিং শিখতে চায় তাহলে তার সফল হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু আসুন একটু দেখি।

ভিডিও এডিটিং শিখতে হলে দুইটা জিনিস খুবই প্রয়োজন, একটা হচ্ছে হাই কনফিগারেশন কম্পিউটার এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে হাই স্পিড ইন্টারনে। আমরা জানি একটা হাই কনফিগারেশন কম্পিউটারের দাম সাধারণ একটা মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষেও বহন করা দুঃসাধ্য, হাই স্পিড ইন্টারনেট না হয় সে কোনভাবে ম্যানেজ করলো, কিন্তু যারা গ্রামে থাকেন তারা জানেন বিদ্যুতের লোডশেডিং এর কি অবস্থা, একটা বড় বা মাঝারি ফাইল রেন্ডার হওয়ার আগেই হইয়ত কারেন্ট চলে যাবে।

অর্থাৎ কম্পিউটার কেনা থেকে শুরু করে কাজ শেখা পর্যন্ত প্রতিটা পদেই সে প্রতিকূলতার সম্মুখীন হবে, এতে করে প্রতিদিনই তার হতাশা বারবে, ফলাফল হবে শুন্য।

অথচ এই ভিডিও এডিটিং যদি শহরের এমন একটা ছেলে শুরু করে যার হাই কনফিগারেশন কম্পিউটার আছে, ইন্টারনেটের সমস্যা নাই, লোডশেডিংও তেমন একটা সমস্যা করে না, তাহলে তার জন্য কিন্তু এটা হতে পারে দারুন একটা ক্যারিয়ার।

আবার গ্রামের ওই ছেলেটা যদি ডিজিটাল মার্কেটিং কিংবা আর্টিকেল রাইটিং এর মত সহজ কোনো একটা বিষয় পছন্দ করত তাহলে কিন্তু ওই প্রতিবন্ধকতা তার আসতো না এবং প্রতিদিনই নিজেকে দক্ষ ও উন্নত করতে পারতো।

উদাহরণটার মাধ্যমে আমি বোঝাতে চাচ্ছি যে কোন কিছু শেখার আগে একটু যাচাই করুন যে সেটা শিখতে হলে কি কি প্রয়োজন, সেই সামর্থ্যগুলো আপনার আছে কিনা, যদি আপনার মনে হয় সেগুলো আপনার আয়ত্তে আছে তাহলে নির্দ্বিধায় শুরু করতে পারেন। নাহলে আরেকটু ভাবুন এবং এমন একটা সাবজেক্ট খুঁজে বের করুন যেটা আপনার অবস্থান থেকে করা সম্ভব। তাহলে আর শুরু করার পর আটকাতে হবে না।

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস কি? কিভাবে কাজ পাওয়া যাবে? কতদিন লাগতে পারে?

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস হচ্ছে এমন একটা জায়গা যেখানে বায়ার অর্থাৎ যে কাজটা করতে দিবে সে যেমন আসবে, আবার যে সার্ভিস প্রোভাইড করবে অর্থাৎ সেলার সেও আসবে। কিভাবে বায়ার সেলারকে কাজের অর্ডার দিবে বা হায়ার করবে এবং কিভাবে সেলার সেই কাজটা সম্পূর্ণ করে ডেলিভারি করবে তার সকল ব্যবস্থাই করে থাকে মার্কেটপ্লেস। বায়ার এবং সেলার উভয়ের অর্থ এবং কাজের নিরাপত্তা প্রদান করে মার্কেটপ্লেস। বায়ার যখন কাউকে অর্ডার করে অথবা হায়ার করে তখন সেই টাকাটা মার্কেটপ্লেসের আন্ডারে চলে যায়, সেলার যখন কাজটা ঠিকঠাক ভাবে ডেলিভারি করে তখন মার্কেটপ্লেস সেলারকে টাকাটা দিয়ে দেয়। জনপ্রিয় কিছু মার্কেটপ্লেস হচ্ছে Fiverr, Upwork, Freelancer, 99design ইত্যাদি।

কোন একটা বিষয়ে দক্ষ হওয়ার পর আপনাকে যেকোনো একটা মার্কেটপ্লেস একাউন্ট করতে হবে, ওই মার্কেটপ্লেস কিভাবে কাজ করে তা জানার পর কাজের জন্য আবেদন করতে হবে। 

সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে সঠিকভাবে এগুলো খুব দ্রুতই কাজ পাওয়া যেতে পারে, তবে প্রস্তুতিতে ঘাটতি থাকলে এবং মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকলে কাজ পাওয়া বিলম্ব হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এক্ষেত্রে অবশ্যই যেই মার্কেটপ্লেসে একাউন্ট করবেন তার সম্পর্কে খুব ভালো ধারণা থাকতে হবে।

ফ্রিল্যান্সিং এর কোন কোর্স টা করবো? কত টাকা লাগবে? অথবা কিভাবে শিখবো?

ফ্রিল্যান্সিং শেখার জন্য প্রথমেই কোন একটা কোর্স করার পক্ষে আমি না। ইতিমধ্যে আপনি জেনে গেছেন কি কি নিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করা যেতে পারে, এখন আপনি সিদ্ধান্ত নেন কোনটা নিয়ে শুরু করতে চান। তারপর ওই সাবজেক্টটা ইউটিউবে লিখে সার্চ দেন, ওই বিষয়ের উপর অনেকগুলো ভিডিও পাবেন। কিভাবে শিখবেন এই বিষয়ের উপর অনেক টিউটোরিয়াল পাওয়া যাবে। প্রথম ২ থেকে ৪ সপ্তাহ শুধুই ভিডিও গুলো দেখুন এবং নিজে নিজে শেখার চেষ্টা করুন।

তারপর কিছুদিন পর আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনার কি কি শেখা হয়েছে এবং কি কি শেখা বাকি এবং এই ফিল্ডে কারা কারা ভালো কাজ করছে তাদের সম্পর্কেও আপনি মোটামুটি জেনে যাবেন। এরপর সিদ্ধান্ত নিন কার কাছ থেকে শিখবেন বা কোন প্রতিষ্ঠানে কোর্স করবেন।

আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা যদি বলি, আমি শুধুমাত্র ইউটিউবের ভিডিও দেখেই ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট শিখেছি এবং টপ রেটেড সেলারও হয়েছি।

আপনার যদি ইচ্ছাও চেষ্টা থাকে তাহলে আপনিও শুধুমাত্র ইউটিউব দেখেই যে কোন কাজ শিখতে পারেন। তারপরও যদি মনে হয় একজন মেন্টর থাকলে ভাল হয় তাহলে প্রথমে নিজে চেষ্টা করুন তারপর এমন একটা প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি খুঁজে বের করুন যার কাছ থেকে কাজ শিখলে আপনি মোটামুটি সাপোর্ট পাবেন সেখান থেকে কোর্স করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, অনলাইন অথবা অফলাইন এসব বিবেচনা করে কোর্স ফি বিভিন্ন রকম হতে পারে। অনলাইন কোর্সগুলোর দাম তুলনামূলক কম আর অফলাইন কোর্সগুলো ৫ হাজার থেকে শুরু করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত কেউ কেউ চার্জ করে। তাই যেকোনো কোর্স কেনার আগে প্রথমে নিজে চেষ্টা করুন তারপর যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিন। এমন অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তারা টাকা নিয়ে ঠিকমতো কাজ শেখায় না। 

তাই আবারও বলছি যেকোন কোর্সে জয়েন করার আগে ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করে নিন।

ফ্রিল্যান্সিং কাজ করার জন্য কি কি প্রয়োজন? মোবাইল দিয়ে কি ফ্রিল্যান্সিং করা যায়?

ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য একটি পার্সোনাল কম্পিউটার বা ল্যাপটপ এবং একটি ইন্টারনেট কানেকশন হচ্ছে মূল অস্ত্র। কাজের ধরনের উপর নির্ভর করে কম্পিউটারের মান ঠিক করতে হবে, কিছু কাজ হয়তো সাধারণ মানের একটা কম্পিউটার দিয়ে হয়ে যাবে, আবার কিছু কাজের ক্ষেত্রে অনেক হাই কনফিগারেশন কম্পিউটারের দরকার হবে যেমন ভিডিও এডিটিং। 

কিছু কাজ হয়তো মোবাইল দিয়ে করা যাবে যেমন আর্টিকেল রাইটিং, কিন্তু যখন আপনি প্রফেশনালি মার্কেটপ্লেসে প্রবেশ করবেন তখন অবশ্যই কম্পিউটার থাকা জরুরি। শুধু মোবাইল দিয়ে তখন সবকিছু করা সম্ভব হবে না।

নতুনরা কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবে? এই ব্যাপারে আমার অভিজ্ঞতা থেকে পরামর্শ।

ফ্রিল্যান্সিং এখন আমাদের মাঝে একটা ট্রেন্ড হয়ে গিয়েছে, প্রিন্ট মিডিয়ার নিউজ ও বিভিন্ন সাক্ষাৎকার দেখে মনে হয় ফ্রিল্যান্সিং মানেই ঘরে বসে মাসে হাজার হাজার ডলার, লাখ লাখ টাকা।

কিন্তু বাস্তবতা অনেকটাই ভিন্ন। খুব অল্প কিছু মানুষই এই সেক্টরে সফল হয়, সঠিক গাইড লাইন ও ধৈর্যের অভাবে বেশিরভাগ মানুষই ঝরে যায়। অনেকে অতি উৎসাহী হয়ে চাকরি ছেড়ে ফ্রিল্যান্সিং এ আসে বা সবকিছু বাদ দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করার চিন্তা করে, আর সমস্যাটা শুরু হয় তখনই। কারণ ফ্রিল্যান্সিং শিখে কবে আপনি কাজ পাবেন এই নির্দিষ্ট কোন সময় কেউ বলতে পারবে না। ভালো প্রস্তুতি ও সঠিকভাবে আগালে হয়তো ৬ থেকে ৮ মাসের ভিতরে কাজ পাওয়া যেতে পারে, তবে সবার ক্ষেত্রে এটা নাও হতে পারে। 

তাই আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং করার চিন্তা করেন তাহলে অবশ্যই স্বাগতম, তবে সেটা যেন ফুল টাইম না হয়, অবশ্যই আপনার পড়ালেখা বা চাকরি বা অন্য কিছু করার পাশাপাশি এটাকে শুরু করতে পারেন, চার থেকে ছয় মাসে হয়তো আপনি কোন একটা কাজ শিখলেন, তারপর আরো চার থেকে ছয় মাস অপেক্ষা করলেন কাজ পাওয়ার জন্য। এরপর যখন আপনি নিয়মিত কাজ পেতে থাকবেন এবং বুঝে যাবেন কিভাবে কন্টিনিউ করতে হবে তখন হয়তো আপনি এটাকে ফুল টাইম প্রফেশন হিসেবে চিন্তা করতে পারেন। 

আমার মতে প্রথম এক দুই বছর এটাকে কোনোভাবেই ফুল টাইম হিসেবে নেওয়া উচিত হবে না। 

আশা করি সম্পূর্ণ আর্টিকেল পড়ে আপনি বুঝতে পেরেছেন ফ্রিল্যান্সিং কি, কিভাবে শিখবেন, কোথা থেকে শিখবেন, কতদিন লাগতে পারে, বা কিভাবে আর্নিং আসতে পারে এবং আপনার কিভাবে শুরু করা উচিত। এবার ঠান্ডা মাথায় চিন্তা ভাবনা করে সিদ্ধান্ত নিন আপনি কি করবেন এবং কিভাবে শুরু করবেন।

আজ এ পর্যন্তই। 

ধন্যবাদ,

মোঃ মাসুম

What's your reaction?
1Smile0Lol0Wow0Love0Sad0Angry

Leave a comment